ক) লাইব্রেরির পরিচয়।
প্রমথ চৌধুরী যথার্থই বলেছেন, ‘আমরা যত বেশি লাইব্রেরি প্রতিষ্ঠা করব, দেশের তত বেশি উপকার হবে। আমার মনে হয়, এদেশে লাইব্রেরির সার্থকতা হাসপাতালের চাইতে কিছু কম নয় এবং স্কুল-কলেজের চাইতে একটু বেশি।’ লাইব্রেরি হচ্ছে এক রকম মনের হাসপাতাল। শিক্ষা ও স্বাস্থ্য আমাদের মৌলিক চাহিদাসমূহের দুটি। কাজেই আমাদের দেশে হাসপাতালের সঙ্গে সঙ্গে গ্রন্থাগারও স্থাপন করতে হবে। ল্যাটিন শব্দ লিবার (Liber) থেকে লিবরারিয়াম (Libraium) থেকে ইংরেজি (Library) শব্দের উৎপত্তি। ইংরেজি Library-কে বাংলায় গ্রন্থাগার নামে অভিহিত করা হয়। গ্রন্থ মানে বই, আগার মানে গৃহ অর্থাৎ বই রাখার গৃহকে লাইব্রেরি বলা হয়।
লাইব্রেরি পরিচয় প্রতিলিপির অর্থঃ
L- Latest
I-Information
B-By
R - Research,
A- And
R - Reference
Y - For you
{RAZU PAUL}
খ) যে ধরনের বই পড়তে ভালো লাগে।
ভূমিকা : বইপড়ার মাধ্যমে আমরা সত্য, সুন্দর, কল্যাণ ও ন্যায়ের চিরায়ত রূপের সাথে পরিচিত হতে পারি। একদিনের বইপড়া আমাদের বিশ্বজগৎ ভ্রমণ করিয়ে আনতে পারে। চোখের সামনে তুলে ধরতে পারে মহাকাশের অজানা রহস্য। বই অতীত আর বর্তমানের সংযোগ সেতু এবং মনের ভেতর তৈরি করতে পারে অনেকগুলো আনন্দময় ভুবন। সেই আনন্দময় ভুবনে ডুব দিয়ে সংসারের নানা জটিলতা থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। একটা ভালো বই বিশ্বস্ত বন্ধুর কাজ করে।
আমার ভালো লাগা বই: ভ্রমণকাহিনি পড়তে আমার সবচেয়ে বেশি ভালো লাগে। কারণ তাতে অজানাকে জানার আনন্দ পাওয়া যায়। বইয়ের ভেতর দিয়ে পৃথিবী ঘুরে আসা যায়। সমৃদ্ধ হয় নিজের জ্ঞান ও অভিজ্ঞতার জগৎ। পঞ্চম শ্রেণিতে 'দেখে এলাম নায়াগ্রা নামক ভ্রমণকাহিনি আর ষষ্ঠ শ্রেণিতে 'রাঁচি ভ্রমণ পড়ে আমার এই ধারণা হয়েছে। ঘরে বসেই জানতে পেরেছি পৃথিবীর সবচেয়ে বড় কানাডার ‘নায়াগ্রা জলপ্রপাত ও ভারতের ঝাড়খণ্ডের রাঁচি অঞ্চলের মনোরম প্রাকৃতিক পরিবেশ সম্পর্কে। ফলে ভ্রমণবিষয়ক বই পড়ার প্রতি আমার কৌতূহল বেড়ে যায়। ভ্রমণকাহিনিগুলোর মধ্যে আমার সবচেয়ে প্রিয় মুহম্মদ আবদুল হাই রচিত ‘বিলাতে সাড়ে সাতশ দিন'। এ বইটি যখন পড়ি, তখন আমার মনের পর্দায় ভেসে ওঠে ইংল্যান্ডের বিচিত্র ছবি। বইটিতে লেখক লন্ডনের মিউজিয়ামগুলোর যে বর্ণনা দিয়েছেন, তা খুবই জীবন্ত হয়ে উঠেছে। লন্ডনে মিউজিয়াম আছে অনেকগুলো। তবে তুসো মিউজিয়াম, ন্যাচারাল হিস্টরি মিউজিয়াম ও সায়েন্স মিউজিয়াম। এগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বড় ব্রিটিশ মিউজিয়াম। এখানে রয়েছে মানবসভ্যতার চার হাজার বছর আগের ধারাবাহিক নিদর্শন। মাদাম তুসোতে আছে বিশ্ববিখ্যাত ব্যক্তিদের মোমের মূর্তি। দেখে মনে হয়, একেবারে জীবন্ত। ইংল্যান্ডে বিচিত্র ফুলের উপহার নিয়ে আসে বসন্ত ঋতু। চারদিকে ফুল আর ফুল যেন চোখে নেশা ধরিয়ে দেয়। লাইলাক, টিউলিপ, মেজ ব্লসম, চেস্ট নাট, ডেইজি, ক্রোকার্স ইত্যাদি। যেদিকে তাকানো যায় শুধু ফুল আর ফুল। ফুলগুলো যে চারদিক আলোকিত করে রাখে। লেখক এই প্রকৃতির আশ্চর্য সুন্দর রূপটিকে ‘সুন্দরের আগুন' বলেছেন। এসব আমাকে খুবই আকর্ষণ করে। বইটি পড়তে পড়তে আমি যেন নিজের অজান্তেই বিলাতের বিভিন্ন অঞ্চল ঘুরে আসি। অজানাকে জানার আনন্দই আমাকে পড়ার মধ্যে বেঁধে রাখে।
আমার বইয়ের সংগ্রহ : প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়ার সময় উপহার পাওয়া বই দিয়েই আমার সংগ্রহ শুরু হয়েছিল। এখন অনেক বই আছে আমার সংগ্রহে। রূপকথা, উপকথা, গোয়েন্দা, মুক্তিযুদ্ধ, ছড়া, কবিতা, ইতিহাস, সাধারণ জ্ঞান, সায়েন্স ফিকশন, ভ্রমণকাহিনি ইত্যাদি। ভ্রমণকাহিনির মধ্যে আছে ‘দেশে বিদেশে, ‘পথে প্রবাসে’, ‘জাপান যাত্রীর পত্র', ‘বিলাতে সাড়ে সাতশ দিন’, ‘মোটরযোগে রাঁচি সফর ইত্যাদি। রূপকথা, মুক্তিযুদ্ধ, ভ্রমণকাহিনি পড়তে আমার বেশি ভালো
লাগে।
গ) লাইব্রেরির প্রয়োজনীয়তা।
লাইব্রেরির প্রয়োজনীয়তাঃ
বেঁচে থাকার জন্য মানুষের যেমন খাবার দরকার, তেমনি জীবনকে গতিময় করার জন্য দরকার জ্ঞান।কারণ জ্ঞান হলো মনের খোরাক বা খাবার। জ্ঞানের আঁধার হলো বই আর বইয়ের আবাসস্থল হলো লাইব্রেরির। প্রতিটা সমাজে যেমন উপাসনালয়, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল দরকার তেমনি লাইব্রেরির প্রয়োজনীয়তাও রয়েছে। লাইব্রেরির মানুষের বয়স, রুচি ও চাহিদা অনুযায়ী বই সরবরাহ করে থাকে। আর তাই সচেতন মানুষ মাত্রই লাইব্রেরির প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেন। পৃথিবীর যতো মহান মনীষী আছেন তাদের সবাই জীবনের একটা বড় সময় লাইব্রেরির কাটিয়েছেন। সাহিত্য-শিল্প, বিজ্ঞান, সংস্কৃতিসহ সব ধরণের জ্ঞানের আঁধার হতে পারে একটি লাইব্রেরির। লাইব্রেরির একটি জাতির বিকাশ ও উন্নতির মানদন্ড। বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তোলা ছাড়া জাতীয় চেতনার জাগরণ হয় না। আর তাই লাইব্রেরির প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম। পৃথিবীর বহুদেশ পাঠকের চাহিদা পূরণের জন্য গড়ে তুলেছে অগণিত লাইব্রেরির শিক্ষার আলো বঞ্চিত কোনো জাতি পৃথিবীতে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারেনি। শিক্ষার বাতিঘর বলা হয় লাইব্রেরির। লাইব্রেরির ছাড়া কোনো সমাজ বা রাষ্ট্র তার নাগরিককে পরিপূর্ণ শিক্ষার অধিকার নিশ্চিত করতে পারে না। লাইব্রেরির প্রয়োজনীয়তা তাই প্রতিটি সমাজে অনিবার্য।লাইব্রেরির প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে বিচারপতি হাবিবুর রহমান বলেছেন,’’লাইব্রেরির মাধ্যমে মানুষের মধ্যে গড়ে ওঠে সংহতি যা দেশ গড়া কিংবা রক্ষার কাজে অমূল্য অবদান।‘’বই পড়ার যে আনন্দ মানুষের মনে,তাকে জাগ্রত করে তুলতে আজ সব ধরণের লাইব্রেরির ব্যপক প্রসার প্রয়োজন।
নিম্নে লাইব্রেরির তিনটি প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করা হলোঃ
বাংলাদেশে লাইব্রেরির প্রয়োজনীয়তা : বাংলাদেশে ১৯৫৩ সালে ঢাকায় প্রতিষ্ঠিত হয় কেন্দ্রীয় পাবলিক লাইব্রেরি। এই লাইব্রেরির সহযোগিতায় শতাধিক সরকারি ও বেসরকারি গ্রন্থাগার দেশের বিভিন্ন স্থানে পরিচালিত হচ্ছে। বিদেশি দূতাবাসের অনুকূল্যে আমাদের দেশে যেসব লাইব্রেরি পরিচালিত হচ্ছে সেগুলোর মধ্যে ব্রিটিশ কাউন্সিল লাইব্রেরি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। এছাড়া আমাদের দেশে সরকারি গ্রন্থাগারের সংখ্যা ৬৮ টি, বেসরকারি গ্রন্থাগারের সংখ্যা ৮৮৩ টি, গণ উন্নয়ন পাঠাগারের পরিচালনায় রয়েছে ২৭টি গ্রন্থাগার।
লাইব্রেরির বিভাজন প্রয়োজনীয়তা: পৃথিবীর অনেক উন্নত দেশের তুলনায় আমাদের দেশে সাধারণ গ্রন্থাগারের সংখ্যা নগণ্য। তবে স্বাধীন দেশে এ শ্রেণীর জনহিতকর প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা যে বেড়েছে তাতে কোনো সন্দেহ নেই। বর্তমানে বিভিন্ন জেলা শহরে নতুন পুরাতন সাধারণ গ্রন্থাগার দেখা যায়। এছাড়া সমাজের বিভিন্ন ক্লাব ও জনহিতকর সংস্থা এ ব্যাপারে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে থাকে। অন্যদিকে, রয়েছে স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় গ্রন্থাগার সভ্যসংখ্যা এসব জায়গায় সীমাবদ্ধ। শুধুমাত্র বিদ্যার্থী, শিক্ষক ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অশিক্ষক কর্মচারীরাই এগুলো ব্যবহারের সুযোগ পেয়ে থাকে। অফিস-আদালত এবং কারখানা ইত্যাদির ক্ষেত্রেও গ্রন্থাগার ব্যবহারের সুযোগ কর্মচারীদের মধ্যে সীমিত। সেসব জায়গায় কর্মকর্তা।
লাইব্রেরির প্রকারভেদপ্রয়োজনীয়তা: গ্রন্থাগার বলতে বিভিন্ন ধরনের
গ্রন্থের সংগ্রহশালা বুঝায়। এ সংগ্রহ ব্যক্তিগত হতে পারে, আবার জনসাধারণ বা রাষ্ট্রেরও হতে পারে। ব্যক্তিগত সংগ্রহে বিশেষ ধরনের গ্রন্থের প্রতি গ্রন্থের প্রতি পক্ষপাতিত্ব থাকা স্বাভাবিক। কারণ গ্রন্থ নির্বাচনে ব্যক্তিবিশেষের বহুজনের পছন্দ-অপছন্দকে গুরুত্ব দিতে হয়। তাই সেখানে গ্রন্থের বৈচিত্র্য যেমন সংখ্যাও তেমনি বেশি।
ঘ) নিজের দেখা একটি লাইব্রেরির বিবরণ।
বাংলাদেশ ১৬৬ বছরের যশোর ইনস্টিটিউট পাবলিক লাইব্রেরি।
পড়ন্ত বিকেলের রোদ ঘরজুড়ে। লম্বাটে ঘরের দেয়াল ঘেঁষে বইয়ের তাক। মাঝখানে বসানো লম্বা টেবিলে সারি সারি চেয়ারে বসে আছেন বেশ কয়েকজন নিমগ্ন পাঠক, পড়ছেন। কেউ বই, কেউবা দৈনিক পত্রিকা আর সাময়িকী। ১৬৬ বছর ধরে এভাবেই পড়ুয়াদের নিমগ্ন করে রেখেছে যশোর ইনস্টিটিউট পাবলিক লাইব্রেরি।
যশোর শহরের দড়াটানা চত্বরের পাশেই এই লাইব্রেরির অবস্থান। তিনতলা ভবনটির নাম আঞ্চলিক কেন্দ্রীয় বই ব্যাংক ভবন। ভবনের নিচতলায় ডান পাশে যশোর ইনস্টিটিউটের প্রশাসনিক কার্যালয়। বাঁ দিকে সংবাদপত্র পাঠকক্ষ। এখানে ৩৮টি জাতীয় ও আঞ্চলিক সংবাদপত্র এবং ৮টি সাময়িকী নিয়মিত রাখা হয়। ঘরের চারদিকে বইয়ের তাক।
ব্যবসায়ী সূর্য বিশ্বাস আট বছর ধরে এই লাইব্রেরিতে আসেন পড়তে। তিনি বলেন, ‘প্রতিদিনই আমি এখানে সংবাদপত্র পড়তে আসি। সময় থাকলে সাময়িকীও পড়ি।’
সিঁড়ি বেয়ে দোতলায় উঠে দেখা গেল, ডান পাশে একটি ঘর। এটা রেফারেন্স বিভাগ। এর পাশে বইয়ে ভর্তি তাক। বেশির ভাগ পাঠ্যবই। মাঝে লম্বা টেবিল। সামনে সাজানো চেয়ারে বসে বই পড়ছিলেন তিনজন ছাত্র। তাঁদের একজন রিপন বিশ্বাস বলেন, ‘সবে লেখাপড়া শেষ করেছি। এখন চাকরির চেষ্টা করছি। চার মাস ধরে প্রতিদিন এখানে এসে বিভিন্ন বই পড়ি। মাঝেমধ্যে গল্পের বই পড়ি।’
বাঁ দিকে লাইব্রেরির কার্যালয়। এখানে বইয়ের প্রসেসিং, ক্যাটালগ তৈরি এবং কম্পিউটারে বইয়ের ডেটাবেইস তৈরি করা হয়। সিঁড়ি বেয়ে তিনতলায় উঠে দেখা গেল, বাঁ পাশে একটি বড় কক্ষ। এটা পাণ্ডুলিপি, দুষ্প্রাপ্য গ্রন্থ, সংরক্ষণ এবং সংগ্রহশালা বিভাগ। মাঝখানে কিছুটা ফাঁকা রেখে কক্ষটি সাজানো রয়েছে অনেকগুলো বইয়ের তাকে। তাকগুলো ভরা একাডেমিক ও বিভিন্ন দুষ্প্রাপ্য গ্রন্থে। পাশে দুটি টেবিল। টেবিলের ওপর অনেকগুলো পাণ্ডুলিপি রাখা আছে। তার ওপর কাচ দিয়ে ঢাকা রয়েছে। তার পাশে বাঁধাই করা কয়েকটি সংবাদপত্রের স্তূপ। কক্ষের মাঝে দুটি ছোট টেবিল। সামনে চেয়ার। সেখানে বসে বই পড়ছিলেন দুজন ছাত্র।
তালপাতার পাণ্ডলিপিতালপাতার পাণ্ডলিপি
ডানে রয়েছে অধ্যাপক শরীফ হোসেন গবেষণা হল। এটা মূলত গবেষকদের জন্য। এর মধ্যে রয়েছে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক কর্নার ‘বাংলাদেশের হৃদয় হতে’, কবি মাইকেল মধুসূদন দত্তের রচনা সম্ভার ও তাঁর গবেষণাকর্ম নিয়ে আছে ‘মাইকেল কর্নার’, কবি কাজী নজরুল ইসলামের রচনা সম্ভার নিয়ে আছে ‘নজরুল কর্নার’ আর যশোরের ইতিহাস-ঐতিহ্য জানার জন্য আছে ‘যশোর কর্নার’।
পাশের দোতলা ভবনটিতে রয়েছে, লাইব্রেরির বই ইস্যু বিভাগ এবং শিশুদের জন্য রয়েছে শিশু বিভাগ।
সরকারি ছুটি বাদে লাইব্রেরিটি প্রতিদিন বেলা আড়াইটা থেকে রাত নয়টা পর্যন্ত খোলা থাকে। শুক্রবার সংবাদপত্র পাঠ বিভাগ এবং বই ইস্যু বিভাগ ব্যতীত লাইব্রেরির সব বিভাগ বন্ধ থাকে।
লাইব্রেরিতে যা আছেঃ
গ্রন্থাগারের সংগ্রহে রয়েছে বাংলা, আরবি, ফারসি, উর্দু ও ইংরেজি গ্রন্থসহ দুই শতাধিক পাণ্ডুলিপি। আছে তালপাতার পুঁথি। আছে হাতে লেখা কবি কালিদাসের পুঁথি। হাতে লেখা মহাভারতও আছে। আছে প্রাচীন রামায়ণ। নলখাগড়ার কলমে আর ভূষা কালিতে লেখা দুর্গাপূজাপদ্ধতির বর্ণনা আছে। এখানে আছে ৯০ হাজার বই। মোট বইয়ের ৬০ শতাংশ উপন্যাস, ৩০ শতাংশ রেফারেন্স বুক ও গবেষণাগ্রন্থ আছে ১০ শতাংশ।
লাইব্রেরির পাঠাগার সম্পাদক এস নিয়াজ মোহাম্মদ বলেন, লাইব্রেরিতে নিয়মিত নবীন-প্রবীণ কবি-সাহিত্যিকদের শনিবাসরীয় সাহিত্য আসর বসে। শনিবাসরীয় সাহিত্য আসর নৈকট্য নামে একটি সাহিত্য পত্রিকা বের করে।
ইতিহাসের পাতা থেকে
ভারতীয় উপমহাদেশের প্রাচীনতম পাঠাগারগুলোর একটি যশোরের পাবলিক লাইব্রেরি। ১৮৫১ সালে যশোরের ডিস্ট্রিক্ট কালেক্টর আর সি রেকস যশোরে এই পাবলিক লাইব্রেরিটি প্রতিষ্ঠা করেন। ১৯২৭ সালে নড়াইলের লোহাগড়ার কৃতী সন্তান যদুনাথ মজুমদার যশোর পাবলিক লাইব্রেরি, নিউ আর্য থিয়েটার এবং টাউন ক্লাব মিলে একটি পূর্ণাঙ্গ সাংস্কৃতিক কেন্দ্র গড়ে তোলার উদ্যোগ নেন। এভাবেই ১৯২৮ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় যশোর ইনস্টিটিউট। এরপর এক সরকারি আদেশবলে লাইব্রেরিটি যশোর ইনস্টিটিউটের অঙ্গসংগঠনে পরিণত হয়। ১৯৬০ সালে লাইব্রেরির আধুনিকায়ন শুরু হয়। ১৯৬৪ সালে লাইব্রেরির দ্বিতল ভবন গড়ে তোলা হয়। ১৯৭৮ সালে নির্মিত হয় বই ব্যাংক ভবন।
আঞ্চলিক কেন্দ্রীয় বই ব্যাংক ভবনআঞ্চলিক কেন্দ্রীয় বই ব্যাংক ভবন
১৮৫১ সালে যে প্রতিষ্ঠান যশোহর পাবলিক লাইব্রেরি নামে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল ১৯৮৩ সালে সংশোধিত নামকরণ হয় যশোর ইনস্টিটিউট পাবলিক লাইব্রেরি। দুটি বিশ্বযুদ্ধ, সাতচল্লিশের দেশ ভাগ, বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন, একাত্তরের স্বাধীনতাযুদ্ধ ইতিহাসের এসব বড় বড় ঘটনায় যশোহর পাবলিক লাইব্রেরি নানাভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অনেকবার জায়গা বদল করতে হয়েছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ব্রিটিশ বিমানবাহিনী ঘাঁটি করেছে যশোর ইনস্টিটিউটে। ১৯৫২ সালে ভাষা আন্দোলনে যশোর যে গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকা রাখে তার পেছনেও এ প্রতিষ্ঠানের অবদান অপরিসীম। ৩৬ বছর ধরে এই লাইব্রেরিতে কাজ করছেন লাইব্রেরিয়ান আবু জাহিদ। তিনি বলেন, লাইব্রেরিতে বর্তমানে পত্রপত্রিকা পড়ার পাঠকের সংখ্যাই বেশি। প্রতিদিন গড়ে ৩০০ পাঠক খবরের কাগজ পড়তে আসেন। বই পড়তে আসেন গড়ে ৫০ জন।
সমাপ্ত
0 মন্তব্যসমূহ